
সয়াবিন তেল
সয়াবিন তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ১৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরা। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে এ চিঠি দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। তবে সরকারি ছুটির কারণে এই সময়ের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনার সুযোগ নেই, যা সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দাম বৃদ্ধির কারণ ও বিতর্ক
দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক–কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হওয়া দেখানো হয়েছে। তবে শুল্ক–করের হিসাবেও নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত শুল্ক-কর রেয়াত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
দাম বাড়ানোর বিষয়ে আইআইটি দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তারা নিজেরা কার্যকর করলে সেটি সরকার অনুমোদিত হবে না। দাম বাড়ানোর অনুমোদন বৈঠক করে দেওয়া হয়, যা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।"
দাম বৃদ্ধির হিসাবে গরমিল
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুল্ক-কর রেয়াতের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে কোম্পানিগুলোর সাশ্রয় হয়েছে প্রতি লিটারে ১১ টাকা। কিন্তু এখন শুল্ক-কর রেয়াত উঠে যেতেই ১৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ৭ টাকা বেশি মুনাফা করার চেষ্টা করছে কোম্পানিগুলো।
বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং একবার দাম বাড়ালে কয়েক মাস আর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
নতুন দাম কত হবে?
-
বোতলজাত সয়াবিন তেল (লিটারপ্রতি) → ১৯৩ টাকা (আগে ছিল ১৭৫ টাকা)
-
পাঁচ লিটারের বোতল → ৯৩৫ টাকা
-
খোলা সয়াবিন তেল (লিটারপ্রতি) → ১৭০ টাকা (আগে ছিল ১৫৭ টাকা)
-
খোলা পাম তেল (লিটারপ্রতি) → ১৭০ টাকা (আগে ছিল ১৫৭ টাকা)
ভোক্তাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ
রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা রুবি হুসাইন বলেন, "বারবার তেলের দাম বাড়ানো এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি মেনে নেওয়া যায় না। এখনই তেলের দাম কেনা দায়। আরও বাড়লে সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব হয়ে যাবে।"
এ অবস্থায় সরকারকে কঠোর পর্যালোচনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ভোক্তারা।