ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
০৩ এপ্রিল ২০২৫

Advertisement
Advertisement

মিয়ানমারে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকারা কাঁদছেন, চলছে উদ্ধারের চেষ্টা

প্রকাশিত: ১৭:২৮, ২৯ মার্চ ২০২৫

মিয়ানমারে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকারা কাঁদছেন, চলছে উদ্ধারের চেষ্টা

মিয়ানমার

মিয়ানমারে গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, এবং মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। ভূমিকম্পের পর দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

উদ্ধার অভিযান ব্যাহত, মানবিক বিপর্যয় তীব্র

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর মান্দালয়। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন, কিন্তু ভারী উদ্ধারযন্ত্রের অভাবে খালি হাতেই চলছে উদ্ধারকাজ

হেতেত মিন নামে এক যুবক জানান, ভূমিকম্পের সময় একটি দেয়াল তার শরীরের ওপর ভেঙে পড়ে, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু তার দাদি ও দুই চাচা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, "ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু একা সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত কোনো উদ্ধারকারী দল আমাদের এখানে আসেনি।"

গৃহযুদ্ধের মধ্যে আরেকটি বিপর্যয়

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলায় এমনিতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। এর মধ্যেই ভূমিকম্প দেশটিকে আরও বিপর্যস্ত করেছে

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর শীলা ম্যাথিউ বলেন, "শক্তিশালী ভূমিকম্পটি সবচেয়ে খারাপ সময়ে মিয়ানমারে আঘাত হেনেছে। তারা আরেকটি বিপর্যয়ের ভার বহন করতে পারবে না।"

আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির মিয়ানমার পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াস বলেন, "গৃহযুদ্ধ, কলেরা ও অন্যান্য রোগের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগেই ভেঙে পড়েছিল। ভূমিকম্প সেই দুর্যোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।"

উদ্ধারে বাধা: জান্তার নিয়ন্ত্রণ ও তরুণদের অভাব

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিয়ানমার বিশ্লেষক নই নই কয়ো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে সক্রিয় কোনো সরকার নেই। এছাড়া জান্তা সরকার তরুণদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করায় উদ্ধারকাজে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের অভাব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, "যদি তরুণরা তাদের নিজ এলাকায় থাকত, তাহলে তারা সবার আগে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসত। কিন্তু এখন তা হচ্ছে না।"

উদ্ধার অভিযানে জান্তার নীরবতা, বিরোধী সরকারের উদ্যোগ

রয়টার্স জান্তার সঙ্গে উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি। তবে জান্তা বিরোধী সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (NUG) জানিয়েছে, তারা আক্রান্ত এলাকায় তাদের যোদ্ধাদের উদ্ধার অভিযানে মোতায়েন করবে

মিয়ানমারে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা এবং মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক সহায়তা ও কার্যকর উদ্ধার তৎপরতা না হলে হতাহতের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Advertisement
Advertisement

Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/dikdorshon/public_html/details.php on line 531