ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
০৩ এপ্রিল ২০২৫

Advertisement
Advertisement

চীনের ভূমিকায় ভারতের অবস্থান: ইরান, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত স্বার্থ

প্রকাশিত: ১৭:৫০, ১ এপ্রিল ২০২৫

চীনের ভূমিকায় ভারতের অবস্থান: ইরান, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত স্বার্থ

ইরানে চীনের উপস্থিতি ও ভারতের উদ্বেগ

চীন ও ইরান ২০২১ সালে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে চীন ইরানের অবকাঠামো, শক্তি খাত, ও সামরিক ক্ষেত্রে বিশাল বিনিয়োগ করছে। এটি ভারতের জন্য কয়েকটি কারণে উদ্বেগজনক:

  • চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎ: ভারত চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ করেছে, যা পাকিস্তানের গদর বন্দরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু চীন যদি ইরানের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করে, তাহলে চাবাহারের গুরুত্ব কমতে পারে।

  • ইরানের বাজারে ভারতের প্রভাব হ্রাস: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছে। চীনের কৌশলগত বিনিয়োগ ইরান-ভারত বাণিজ্য আরও সংকুচিত করতে পারে।

  • পাকিস্তান-চীন-ইরান সংযোগ: চীন পাকিস্তানের গদর বন্দর ও চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) এর সাথে ইরানকে যুক্ত করতে চাইছে, যা ভারতের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করবে।

২. মধ্যপ্রাচ্যে চীনের উপস্থিতি ও ভারতের কৌশল

মধ্যপ্রাচ্য ভারতের জন্য শক্তি সরবরাহ ও শ্রমশক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে চীনের বাড়তি বিনিয়োগ ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

  • চীনের সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা: চীন সৌদি ও UAE-এর সাথে বৃহৎ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের ঘনিষ্ঠ অংশীদার ছিল।

  • BRI (Belt and Road Initiative) ও চীনা প্রভাব: চীন মধ্যপ্রাচ্যে বন্দর ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে, যা সুয়েজ করিডর বাইপাস করে বাণিজ্যের নতুন পথ তৈরি করছে। এর ফলে ভারতীয় নৌবাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

  • ভারতের বিকল্প কৌশল - IMEC (India-Middle East-Europe Economic Corridor): ভারত, সৌদি আরব, UAE, ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় IMEC প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের BRI-এর বিকল্প তৈরি করতে চাইছে।

৩. দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রসার ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

দক্ষিণ এশিয়ায় চীন অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে, যা ভারতের জন্য কৌশলগত হুমকি তৈরি করছে।

  • শ্রীলঙ্কা: চীন হামবানটোটা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা ভারত মহাসাগরে চীনের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ভারত পাল্টা শ্রীলঙ্কার ট্রিনকোমালি বন্দরে বিনিয়োগ করছে।

  • বাংলাদেশ: চীন ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল প্রকল্পসহ বড় বিনিয়োগ করছে, যা ভারতের প্রভাবকে কমাতে পারে। তবে ভারতও বাংলাদেশে বেশ কিছু অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে।

  • নেপাল: চীন নেপালের অবকাঠামো ও সামরিক খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ভারতের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নেপাল ভারতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

  • মালদ্বীপ: নতুন সরকার ভারত-বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে এবং চীনের দিকে ঝুঁকছে, যা ভারতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

৪. ভারতের সম্ভাব্য কৌশল

চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবিলায় ভারত কয়েকটি কৌশল গ্রহণ করতে পারে:

  • IMEC ও Quad (ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া) জোটকে শক্তিশালী করা

  • চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ইরানের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য নীতির সমন্বয়

  • মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় শ্রমশক্তি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে চীনের প্রভাব কমানো

  • দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প বাড়ানো ও আঞ্চলিক সম্পর্ক মজবুত করা

চীন বর্তমানে ইরান, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে ভারত কৌশলগত বিনিয়োগ, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চীনের এই আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

Advertisement
Advertisement

Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/dikdorshon/public_html/details.php on line 531