
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ‘ম্যাডেলিন অলব্রাইট অনারারি গ্রুপ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বাংলাদেশি সাহসী নারী শিক্ষার্থীরা, যারা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সোমবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নে অনন্য অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশি নারীদের ঐতিহাসিক অর্জন
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আয়োজিত ১৯তম বার্ষিক ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’ (IWOC) পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের অবদানের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্যামি ব্রুস বলেন, “বাংলাদেশের গর্বিত মেয়েরা আগামীকালের (১ এপ্রিল) পুরস্কার গ্রহণ করে সম্মানিত হচ্ছেন।”
গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা দেশব্যাপী আলোচিত হয়। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন। এই আন্দোলন দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এই পুরস্কার পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “তাদের এই অর্জন পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। বাংলাদেশি নারীরা আজ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সাহস ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি পেলেন।”
পুরস্কারপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষ আয়োজন
এই পুরস্কার অর্জনের পর বিজয়ীরা ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্তর্জাতিক ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবেন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। সেখানে তারা বিশ্বজুড়ে নারী ক্ষমতায়নের জন্য কৌশল বিনিময় এবং আমেরিকান নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
ম্যাডেলিন অলব্রাইট অনারারি গ্রুপ অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে
২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ৯০টিরও বেশি দেশের ২০০ জনের বেশি নারীকে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এই বছর বিশ্বের আটজন অসাধারণ নারীকে IWOC পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে এবং ম্যাডেলিন অলব্রাইট অনারারি গ্রুপ অ্যাওয়ার্ডের বিজয়ীদেরও সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীদের এই অর্জন জাতির জন্য একটি অনন্য গর্বের মুহূর্ত। তাদের এই সাহসী ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।