
সিঙ্গাপুরে ডেঙ্গু দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। আবহাওয়া এবং ঘনবসতির মতো কারণগুলো এই রোগ দমনকে প্রতিবারই কঠিন করে তোলে। তবে ২০১৬ সালে চালু হওয়া প্রজেক্ট ওলবাকিয়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটিকে একটি কার্যকর সমাধানের পথে নিয়ে গেছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া-সংক্রামিত পুরুষ এডিস এজিপ্টাই মশা ছাড়া হয়। এদের স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলনের ফলে যে ডিম উৎপন্ন হয়, তা আর ফুটে লার্ভায় পরিণত হয় না। যেহেতু পুরুষ মশা কামড়ায় না এবং রোগ ছড়ায় না, তাই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি পদ্ধতি।
সিঙ্গাপুর সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশ বাড়িতে—প্রায় ৮ লাখ পরিবারে—এই মশা ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
২০২২ সালে পরিচালিত একটি বৃহৎ মাঠ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেসব এলাকায় ওলবাকিয়া মশা ছাড়া হয়েছে, সেসব জায়গায় এডিস মশার সংখ্যা ৮০–৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
প্রায় ছয় দশকের টানা প্রচেষ্টার ফলে বর্তমানে একজন নাগরিকের প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১৯৬০ সালের তুলনায় দশগুণ কম। পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।