
খেজুর
খেজুর শুধু একটি সুস্বাদু ফল নয়, এটি স্বাস্থ্য উপকারিতার এক অপরিহার্য ভাণ্ডার। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, খনিজ ও ফাইটো হরমোন, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন মাত্র দুটি খেজুর খেলে নানা রোগের ঝুঁকি কমে, হজমশক্তি উন্নত হয় এবং ত্বক ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
১. ক্ষতিকর বর্জ্য নিষ্কাশনে সহায়ক
খেজুরে প্রচুর দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় আঁশ থাকে, যা হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এটি মল নরম করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য নিষ্কাশনে সহায়তা করে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
খেজুরে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরে প্রদাহ প্রতিরোধ করে।
৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, মিষ্টিজাতীয় হওয়ায় খেজুর কি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর? গবেষণা বলছে, বরং এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৪. হাড়ের গঠন মজবুত করে
খেজুরে থাকা কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও সেলেনিয়াম হাড়কে শক্তিশালী করে এবং অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে ও হাড় দীর্ঘসময় মজবুত থাকে।
৫. ত্বককে তরতাজা ও উজ্জ্বল রাখে
খেজুরে থাকা ফাইটো হরমোন বলিরেখা দূর করে ত্বককে সতেজ ও তারুণ্যময় রাখে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুরের বিচির নির্যাস ব্যবহার করলে চোখের নিচের কালো দাগ কমে ও ত্বক উজ্জ্বল হয়। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়াটা হতে পারে একটি কার্যকর অভ্যাস।
খেজুর শুধু রমজান মাসেই নয়, বরং সারা বছরই খাওয়া উচিত। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, হাড় মজবুত রাখে এবং ত্বকের যত্ন নেয়। প্রতিদিন দুটি খেজুর খেলে শরীর ও স্বাস্থ্যে আসতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তন।