
বদ হজম
রোজার নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাসের পর ঈদের দিন অতিরিক্ত ও ভারী খাবার খাওয়ার ফলে বদহজম, গ্যাসের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো নানা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।
পেটের সমস্যা প্রতিরোধের উপায়:
১. ঈদের দিন সকালে নামাজের আগে হালকা খাবার খান।
2. সারা দিনে অল্প অল্প করে খাবার খান, একবারে বেশি খাবেন না।
3. গুরুপাক খাবার, দুধজাতীয় খাবার ও কফি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
4. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন (১০-১২ গ্লাস, যদি চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে)।
5. বেশি খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না, বরং কিছুক্ষণ হাঁটুন।
6. একের পর এক খাবার না খেয়ে মাঝে বিরতি দিন।
সমস্যা হলে করণীয়:
✅ বদহজম ও গ্যাসের সমস্যা:
-
গ্যাস বা গন্ধযুক্ত ঢেকুর হলে সিরাপ পিঙ্ক-বিসমল বা পেপটোসিড নিতে পারেন (প্রতি আধা ঘণ্টায় ৪-৬ চামচ, তবে দিনে ৮ বার এর বেশি নয়)।
-
পেট ফেঁপে গেলে সিরাপ গ্যাভিসল বা গ্যাভিলাক এম চার চামচ করে দিনে চারবার খেতে পারেন।
✅ বমি বা বমি ভাব:
-
এমিসট্যাট জাতীয় বমির ওষুধ খেতে পারেন।
-
বমির পর ওরস্যালাইন খাওয়া জরুরি (প্রতি বমির জন্য ২ গ্লাস ওরস্যালাইন)।
-
প্রথমে ওষুধ খেয়ে ৩০-৪০ মিনিট পর ওরস্যালাইন খাওয়া শুরু করুন।
✅ পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া:
-
বেশি করে পানি ও তরল খাবার খান (ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, লবণ-চিনির শরবত)।
-
প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর অন্তত ৫০০ মিলিলিটার (২ গ্লাস) ওরস্যালাইন পান করুন।
-
সহজপাচ্য খাবার খান (জাউভাত, চিড়া, কলা ইত্যাদি)।
✅ পেটব্যথা হলে:
-
হালকা ব্যথার জন্য অ্যান্টিস্পাসমোডিক ওষুধ খেতে পারেন।
-
তীব্র ব্যথা, জ্বর, শরীরের দুর্বলতা, অতিরিক্ত পেট ফোলা বা শরীরে লবণের ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা ও পরামর্শ:
সংযমের মাস রমজানের পর অতিরিক্ত খাবার খেলে তা অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ঈদের আনন্দ ঠিক রাখতে সচেতনভাবে খাবার খান এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলুন।