
ইরান ফুটবল দল
যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে দ্বিতীয়বারের মতো ফিরে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ৪৩টি দেশের একটি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা তৈরি করেছে, যেখানে ১১টি দেশকে ‘লাল তালিকায়’ রাখা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ আসরের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে, কিন্তু দেশটি লাল তালিকাভুক্ত হওয়ায় তাদের মার্কিন ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। একই শঙ্কা রয়েছে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও, যারা প্লে-অফের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে পারে।
ফিফার সামনে সমাধানের পথ
বিশ্বকাপের অন্যান্য আয়োজক দেশ মেক্সিকো ও কানাডা থাকায় ফিফার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও ভেনেজুয়েলার গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজন করা যেতে পারে। এছাড়া ড্রয়ে এমন ব্যবস্থা করা যেতে পারে যাতে নিষেধাজ্ঞার শিকার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই গ্রুপে না পড়ে।
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নকআউট পর্বে, যেখানে দলগুলো নির্দিষ্ট পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরবর্তী রাউন্ডে মুখোমুখি হবে। এমন পরিস্থিতিতে কি যুক্তরাষ্ট্র স্বাগতিক হয়েও ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে মেক্সিকো বা কানাডায় যাবে?
আইসিসির মডেল অনুসরণ করতে পারে ফিফা
এর আগে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে আইসিসি ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করেছিল। ভারত তাদের ম্যাচগুলো পাকিস্তানের পরিবর্তে দুবাইয়ে খেলেছিল। ফিফাও চাইলে এই মডেল অনুসরণ করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ দেশগুলোর ম্যাচ বিকল্প স্থানে আয়োজন করতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন কি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, নাকি ফিফা বিকল্প পথ বেছে নেবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।